
প্রত্যেকটা মানুষের জীবনে কিছু স্মৃতি থাকে।ছেলেবেলা এসব স্মৃতির একটা
গুরুত্বপূর্ণ অংশ।বলতে গেলে জীবনের শ্রেষ্ট সময়ও বলা যায়।এই সময়টা সবার
কাছে সাধারণত আনন্দের হয়ে থাকে।সেই স্মৃতি তার বয়স বৃ্দ্বির সাথে সাথে
নড় দিতে শুরু করে।তখন সবার ইচ্ছে হয় ছেলেবেলায় ফিরে যাওয়ার।
সেই যে
ছেলেবেলা মুক্ত আকাশে উড়ন্ত পাখির মত।যখন যেখানে ইচ্ছা চলে যাওয়া,যেটা
ইচ্ছা সেটা করা।কোন কিছুতেই যেন বিন্দুমাত্র বাধা-নিষেধ নেই।আসলে পৃথিবীটা
কত বিচিত্র তার চেয়ে বেশি বিচিত্র মানুষের জীবন।সময়ের ব্যবধানে কত কিছুই
না ঘটে যায় জীবনে।যেখানে থাকে
সুখ-দুঃখ,হাসি-কান্না,আনন্দ-বেদনা,মান-অভিমান,চাওয়া-পাওয়া অনেক কিছু।
আমার ছেলেবেলাটা হাসি-কান্নার মাঝে বেশ ভালই কেটেছে।সেই স্কুল পালানো থেকে
শুরু করে কোন কিছুই বাদ রাখিনি।প্রাইমারিতে ক্লাস ওয়ান আর টু মোটামোটি
ভালই ছিল।নিয়মিত স্কুলে যেতাম।পড়ালেখা ভাল মত করতাম।সে কারনে ক্লাসে
আমার পজিশনও ছিল ভাল।ঐ দুই ক্লাসে প্রথম স্থান কারো সাথে শেয়ার
করিনি।যখনি ক্লাস থ্রিতে উঠলাম আমার পড়ালেখার বারোট বাজতে শুরু
করল।নিয়মিত স্কুলে যাই না।বাসায় প্রাইভেট স্যার আসলে বাইরে পালিয়ে
যেতাম।আমি যখন ক্লাস ফাইভ এ উঠি কেন জানি স্যারেরা জুনিয়র বৃত্তি
পরীক্ষার জন্য বাকীদের সাথে আমাকেও যুক্ত করল।বৃত্তি পরীক্ষা দিলে তো ভাল
মত পড়ালেখা করতে হয়।কিন্তু আমি তো স্কুলে যেতাম বছরে-ছয় মাসে একবার।তো
আমাদেস্র স্কুলে একটা রেওয়াজ ছিল কেউ স্কুলে না আসলে বাসায় ডেকে
পাঠানো।যেতে না চাইলে জোর করে নিয়ে যাওয়া।এটা নিয়ে একটা মজার ঘটনাও
আছে।আমি স্কুলে যাইনি ঐ দিন।দু'পুরে খাওয়ার পর দেখি আমার কয়েকজন সহপাঠী
আমাদের বাসার দিকে আসছে।ওদের দেখে বুঝতে পারছি স্যর আমাকে ডেকে
পাঠিয়েছেন।যেহেতু আম্মু ওদের দেখলে আমাকে স্কুলে পাঠাবেন।তাই আম্মু দখার
আগেই বাইরে গিয়ে দিলাম এক দৌড়।ওরা তখন আমাকে দেখে ফেলল।আমার পেছন পেছন
ওরাও দৌড়াতে শুরু করল।বাড়ীর পাশে একটা বড় পুকুর আছে,পুকুরে চার পাশে
ওদের অনেক্ষণ ঘুরিয়েছি।যখনি দেখলা ধরা পড়ে যাচ্ছি পুকুরে দিলাম এক
লাপ।তারপর ওদের বললাম স্যারকে বলিস আমি পুকুরে মাছ ধরতেছি।ওরা গিয়ে আমার
সব কথা স্যারকে বলে দিল।পরবর্তীতে যখন স্কুলে গেলাম সেই যে পেঠাল এখনো
আমার মনে হলে ব্যাথা পাই।এসব করে তো প্রাইমারি শেষ করলাম।
হাই স্কুলে যখন উঠি তখন ক্লাসে আমার কোন বন্ধু ছিল না।তাই সেখানেও ভাল মত
স্কুলে যেতাম না।এভাবে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত অনেক দুষ্টামি করেছি।যেই
মাত্র ক্লাস ক্লাস নাইন এ উঠলাম কেন জানি আমার পড়ালেখার স্পিরিট অনেক
বেড়ে গেল।নিয়মিত ক্লাস,প্রাইভেট।পরীক্ষায়ও ভাল রেজাল্ট।সেই থেকে
আল্লাহর রহমতে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয় নি।
ছোটবেলায় বেশি গাছে উঠা হত আমার।আমদের আশে পাশে তো দূরের কথা প্রতিবেশি
কারো গাছ নেই যেটাতে আমি উঠিনি।গাছে গাছে একটা খেলা খেলতাম।কেউই আমাকে
ধরতে পারত না।আমাদের গাছগুলো ছিল পাশাপাশি তাই সহজে এ গাছ থেকে ওগাছে চলে
যাওয়া যেত।সেটা আমার মত কেউ পারত না।তাই সবার কাছে আমি বানর বলে বেশ
পরিচিত ছিলাম।এখনো সেই গাছের নেশা আমার কাছ থকে যায়নি।যখনি গ্রামের
বাড়ীতে যাই গাছে উঠে নিজেই ফল পেড়ে খাই।
সে সময় মাছ ধরার প্রতিও ভিষন আগ্রহ ছিল।আমাদের পুকুরে ছোট ছোট পুটিমাছ
বেশি হত।বিকেলে পুকুর ঘাটে বসে বড়সি দিয়ে পুটিমাছ ধরতাম।অনেক মজা
লাগত।একটা কথা আছে না যেখানে মজা সেখানে সাজাও বিদ্যামান।একদিন চাচ্চুর
সাথে আমাদের দীঘিতে মাছ ধরতে গিয়েছিলাম।সেখানে ছোট একটা শিং মাছের কাটা
লেগে সেই যে লাফালাফি।কাউকে আর ভাল করে মাছ ধরতে দেইনি।
আর নানু বাড়ীর কথা কি বল্ব।আমার যখন মজা করার সময় হয়েছিল তার আগেই নানু
ভাইয়া আমাদের ছেড়ে ওপারে চলে গেছে।নানু মনি ছিল ভিষন অসুস্থ।বিছানা
থেকে ঊঠতেই পারে না।সে কারনে নানু বাড়ী আমার জন্য মধুর হাড়ি হয়ে উঠে
নি।
উপরে লেখাগুলো পড়ে এতক্ষনে হয়ত আমার সম্পর্কে অনেক কিছু ধারণা করে
ফেলেছেন।আর যাই মনে করেন না কেন ছেলে হিসেবে ামাকে খারপ ভাববেন না।যদিও
একটু বেশি দুষ্টু ছিলাম। পড়ালেখা একটু কম করলেও আমার ছেলেবেলা একটু বেশি
হাসি মার্কা ছিল। এখন সেই সব কথা মনে পড়লে কেমন জানি লাগে।ইচ্ছে করে আবার
ফিরে যাই সেই সময়টাতে।
স্মৃতিময় সেই ছেলেবেলা হোক সবার জীবনের সবচেয়ে আনন্দঘন মুহুর্ত।এই কামনাই করি।

ছিড়ে ফেলি ভিন্নতার বেড়াজাল,আর মুক্ত করি আমাদের চিরন্তন মনুষত্ব্যকে।
0 comments:
Post a Comment